দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ আবারো ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে। গত বৃহস্পতিবার শেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ হিসাব পদ্ধতিতে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭৩ কোটি (১৯ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন) ডলার। মূলত এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের কারণে রিজার্ভের পরিমাণ কমেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতি অনুসারে, ১৩ মার্চ শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি (২৪ দশমিক ৯৮) বিলিয়ন ডলার, যা ৬ মার্চ শেষে ছিল ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার। এ সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৪০ কোটি ডলার। ৭ মার্চ আকুর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির বিল বাবদ ১৭৫ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেছে।
আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রফতানি হয়, তার মূল্য দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানিসংক্রান্ত লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়। আকুর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুসারে ছিল ২ হাজার ৯১ কোটি ডলার। এ বছরের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৩৬ কোটি ডলার। সর্বশেষ রিজার্ভের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল গত বছরের ২৮ নভেম্বর। সে সময় ১ হাজার ৮৬১ কোটি ডলার ছিল রিজার্ভ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব পদ্ধতি ও আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে গ্রস রিজার্ভের যে হিসাব করা হয় সেটিও প্রকৃত রিজার্ভ নয়। এক্ষেত্রে দায়দেনা বাদ দিয়ে নিট বৈদেশিক রিজার্ভের আরেকটি হিসাব করা হয়, যেটি দেশের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ। তবে নিট রিজার্ভের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল আইএমএফকে জানায়। আইএমএফের হিসাব অনুসারে নিট রিজার্ভ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে গ্রস ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (জিআইআর) থেকে রিজার্ভ সম্পর্কিত দায় বাদ দিতে হয়।
ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে প্রান্তিক ভিত্তিতে নিট বৈদেশিক রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা দিয়ে আসছে আইএমএফ। ঋণ অনুমোদনের পর থেকে টানা পাঁচ প্রান্তিকে বাংলাদেশ রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। তবে গত বছরের জুন ও সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এ-সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। গত বছরের জুন শেষে ১৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার এবং সেপ্টেম্বর শেষে নিট রিজার্ভ ছিল ১৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।